তারাকান্দায় স্বত্বদখলীয় ভূমি বেদখল এর পাঁয়তারা প্রাণনাশের হুমকি

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ৬০ বছরের উর্দ্বকালের ভোগদখলকৃত স্বত্ব ৮৩ শতাংশ ভূমি জোড়পূর্বক বেদখলে নেওয়ার পায়তারা করছে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বিসকা ইউনিয়নের বিসকা গ্রামের বিবাদী আঃ খালেক(৬২)আঃ মালেক(৫৮)আঃ মান্নান(৫৫)আঃ মজিদ(৫০)আঃ আজিত(৪৬)সর্বপিতা মৃত জমসেদ আলী,আঃ কুদ্দুস(৬৪)হযরত আলী(৫০)উভয় পিতা মৃত মিরাজ আলী,আঃ বারেক(৬০)মোঃ মোস্তফা(৪৮)উভয় পিতা মৃত আমছদ আলী গংদ্বয় সর্বসাং বিসকা, তারাকান্দা,ময়মনসিংহ।

বাদি ও বিবাদীরা একই বাড়ীর বাসিন্দা ও গোষ্ঠির লোকজন হয়ে শুধুমাত্র প্রতিহিংসা বসঃত তফসিল মৌজা-বিসকা,জেএলনং-৩৯১,খতিয়ান নং-১০২,দাগ নং-২২৭,শ্রেনি বাড়ি,জমির পরিমান-৮৩ শতাংশ,বিআরএস-২৫৭/৫০৯,বি আর এস-৫৭১ পুকুর.৮৩ শতাংশের খাতে. ৩০ শতাংশ, আবার বিআরএস ৭৮৪/১১২৮ বি আর এস-৫৭৪ শ্রেনি পুকুর. ৮৩ শতাংশের খাতে. ১০ মোট-৪০ শতাংশ ভূমি।
চৌহদ্দী উত্তরে পুকুরপাড় ও রাস্তা,দক্ষিণে বাদীপক্ষ,পূর্বে বাদীপক্ষ,পশ্চিমে বাদীপক্ষ।
উল্লেখ্য যে,নালিশী তফসিল বর্নিত ভূমি এবং বেনালিশী ভূমিসহ মোট ১৩.০৫ একর ভূমি বাবদ বিগত সি এস জরিপে ৫৯ নং খতিয়ানে গালিম শেখ ইলিম শেখ ও নুরু শেখের নামে সমান হিস্যায় লিপিবদ্ধ হয়।নুরু শেখ নালিশী ২২৭ নং দাগের ভূমি নিজ হালে চাষাবাদ করিয়া ২ পূত্র হামেদ আলী এবং আবেদ আলীকে রাখিয়া মারা যান।পরবর্তীতে হামেদ আলী শেখ ও আবেদ আলী শেখ বিগত ২৭/১২/১৯৫২ ইং তারিখে দলিল সম্পাদন করিয়া ১৯৫৩ ইং সনে ৩১৯২ নং সাফ কাওলা দলিল মুলে বাদীগনের পিতা মমরোজ আলীর নিকট বিক্রয় করে দখল হস্তান্তর করিয়া নিঃস্বত্ববান হন।এমতাবস্হায় নালিশী ভূমিতে বাদীগনের পিতা মমরুেজ আলী ওরফে মমরুজ আলী সহ অন্যান্নদের নামে নালিশী বেনালিশী মোট ৫.৬৮ একর ভূমি বাবদ ১০২ নং এস এ খতিয়ান প্রস্তুত হয় এবং নালিশী ভূমিতে ভোগদখলে থাকাবস্হায় বাদীগনকে ২ পূত্র রাখিয়া মমরুজ আলী মারা যান।ফলে নালিশী ভূমিতে বাদীগণ স্হলবর্তী হন।
এস এ ২২৭ নং বি আর এস দাগের ভূমি তিনটি দাগ অর্থাৎ ৫৬৫,৫৭১ এবং ৫৭৪ নং দাগে রূপান্তরিত হয়।বি আর এস ৫৬৫ নং দাগের নালিশী. ৪৩ একর ভূমি এবং বেনালিশী অপর ভূমিসহ মোট ৩.৪০ একর ভূমি বাবদ বাদী হিম্মত আলীর নামে ১০৮২ নং বি আর এস খতিয়ান লিপিবদ্ধ হয়ে প্রচারিত হয় কিন্তু নালিশী এস এ ২২৭ নং দাগের বাকী ৪০ শতাংশ ভূমি বাদীগনের নামে লিপিবদ্ধ না হয়ে ভূল ক্রমে ৫৭১ ও ৫৭৪ নং দাগে বিবাদীগনের পূর্ববর্তীদের নামে ২৫৭,৫০৯,৭৮৪ এবং ১১২৮ নং খতিয়ানে লিপি হয়ে প্রচারিত হয় যাহা সহজ সরল বাদীগন জানিতে বা বুঝিতে পারে নাই।তাদের দখলীয় নালিশী ভূমির সাকুল্যই তাদের নামে বি আর এস রেকর্ড হইয়াছে বলে বিশ্বাস স্হাপন করিয়া নালিশী ভূমি ভোগদখল করিতেছেন।
ইদানিং বিবাদীগনের মধ্যে অধিক চালাক বিবাদীগন বি আর এস জরিপে নালিশী ৮৩ শতাংশ ভূমির মধ্যে ৪০ শতাংশ ভূমি বাদীগনের নামে রেকর্ড হয়ে তাদের পূর্ববর্তীদের নামে লিপি হয়ে প্রচারিত হওয়ায় বাদীগনের সরলতার সুযোগে ৮৩ শতাংশ ভূমির খাতে নালিশী ৪০ শতাংশ ভূমি যাহাতে বাদীগনের পুকুর ও পুকুর পাড় রয়েছে।তাতে ২৭/০২/২০২১ ইং তারিখ রোজ শনিবার বেলা ১১ ঘটিকার সময় তাদের স্বত্ব দাবী করিয়া ঐ তারিখেই বেলা ৩ ঘটিকার সময় বেদখলের হীন চেষ্টা চালায়।
বাদীগন টের পেয়ে বিবাদীগনকে দোহাই নিষেধ দিয়া এলাকাবাসীর মধ্যস্হতায় আপাততঃ বিবাদীগনকে নিভৃত করিলেও বিবাদীগণ নালিশী কলমী নকশা অংকিত তফসিল বর্নিত ভূমি তাদের দখলে নিয়ে যাবে বলিয়া জোড় গলায় লোকমুখে প্রকাশ করছে।
নালিশী ৪০ শতাংশ ভূমি চিন্হিতভাবে বাদীগন বংশপরাক্রমে অর্থাৎ ৬০ বছরের উদ্ধকাল যাবৎ ভোগদখল করিতেছেন যাতে বাদীগনের উত্তম স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত আছে।
নালিশী ভূমিতে বিবাদীগনের কোন দখল নাই বা দখল থাকার কোন প্রশ্নই উঠেনা।বাদীগণ বিবাদীগণ অপেক্ষা জনবলহীন।
এমতাবস্হায় নালিশী তফসিল বর্নিত ও কলমী নকশা প্রদর্শিত ভূমিতে বাদীগনের ষোল আনা রকমের স্বত্ব রহিয়াছে মর্মে স্বত্বের ঘোষনামূলক ডিক্রির প্রার্থনায় বিজ্ঞ আদালতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।এ ছাড়া বাদীগনের অন্য কোন উপায় নাই।
বিগত বি আর এস জরিপে নালিশী ৪০ শতাংশ ভূমি ভূল বশঃত বিবাদীগনের পূর্ববর্তিদের নামে রেকর্ড হয়েছে জানিলে বাদীগণ ইতিপূর্বে স্হাপিত ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্হ হতেন।বিগত ০১/০২/২০২১ ইং তারিখ বিবাদীগণ পক্ষে নালিশী ভূমিতে বাদীর স্বত্ব অস্বীকার করায় সেই তারিখ অন্তে অত্র নালিশের কারন উদ্ভব হয়েছে।
নালিশী তফসিল বর্নিত. ৪০ শতাংশ ভূমি।নালিশী ভূমির বর্তমান মূল্য ৭ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা থাকায় তাহাই অত্র মোকদ্দমার তায়দাদ নির্ধারন করা হয়েছে।
অত্র মোকদ্দমাটি বিজ্ঞ আদালতের এখতিয়ারাধীন বিচারের প্রক্রিয়াধীন।
বিবাদীদের সহিত জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় এবং কোর্টে বি আর এস সংশোধনের মামলা করার জের ধরে বাড়ীতে রাস্তা ঘাটে প্রায়শই বাদীপক্ষের লোকদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ বিভিন্ন সময় প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে এবং পুকুরের মাছ গুলো লোকজন নিয়ে মেরে বাজারে বিক্রি করছে।
এবিষয়টি স্হানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানাইয়া একাধিকবার গ্রাম্য শালিস দরবার করিলেও বিবাদীরা অমান্য করিয়া গায়ের জোরে ভূমি দখলে নেওয়ার পায়তারা করছে।
বিবাদীদের এহেন কার্যকলাপে অপারগ হয়ে স্হাসীয় বিসকা ইউপি চেয়ারম্যান,মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে নিয়ে গত ১৩/০২/২০২১ ইং তারিখ শনিবার সকাল আনুমানিক ১০ টার সময় বাদীদের বসতবাড়ির বাড়ির উঠানে এক শালিস বৈঠকে বসিলে শালিসে বিবাদীরা তাদের স্ব-পক্ষে তফসিল বর্নিত ভূমির কোন প্রকার কাগজপএাদি উপস্হাপন করিতে না পারায় এক পর্যায়ে বিবাদীরা বাদী লিয়াকত আলী সহ তার পরিবারের লোকজনদেরকে খুন জখম করিয়া হলেও তফসিল বর্ণিত স্বত্বদখলীয় ভূমি জোরামুলে বে-দখল করিবে বলে হুমকি দিয়ে চলিয়া যায় এবং লোকমুখে সব সময় বলিয়া বেড়ায়।
বাদী লিয়াকত আলী বা তার পরিবারের লোকজন জমিতে কাজ করতে গেলে উল্লেখিত বিবাদীরা যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টি করিতে পারে।বিষয়টি এলাকার স্হানীয় ব্যক্তিবর্গ দেরকে অবগত করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে জানিয়ে নিজের এবং পরিবারের জান মালের নিরাপত্তার জন্য তারাকান্দা থানা পুলিশ বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং থানা পুলিশও ঘটনাস্হল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
এনিয়ে বাদী লিয়াকত আলী ও তার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে।যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে দূর্ঘটনা।তাই প্রশাসনের কাছে বাদী লিয়াকত আলী সুবিচার প্রত্যাশা কামনা করছে এবং তার পৈত্রিক সম্পদ যাতে কাগজ দখল সবকিছু থাকার পরও দুস্কৃতিকারীরা তার সম্পদটুকু কেড়ে নিতে না পারে তা সুবিচার চায়।

Scroll Up