শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
দুই বছরের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফারুকুল ইসলাম রতন এর মত বিনিময় সভা এ এসপি পরিচয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা প্রতারক সোলাইমান গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান কলমাকান্দায় সাংসদ মানু মজুমদারের অনুদানের চেক বিতরণ ময়মনসিংহ সিটিতে একাধিক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন মসিক মেয়‌র -টিটু  কলমাকান্দায় ১২ লক্ষাধিক ব্যান্ডের শাড়ী জব্দ ময়মনসিংহে ফাইজার টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন মসিক মেয়র টিটু ময়মনসিংহের পরানগঞ্জে এলজিইডির রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সিটি কর্পোরেশনের সেবাকে দ্রুত, সহজলভ্য ও নিবেদিত করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ-মেয়র ইকরামুল হক টিটু

দীর্ঘ এক বছর পরে গাজীপুরের ইদ্রিস হত্যা মামলার সত্যতা উদঘাটন করলো পিবিআই

গাজীপুরের কাপাসিয়ার বহুল আলোচিত ইদ্রিস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর।

বুধবার (২৫ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার টোক বাইপাস এলাকা থেকে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামি দুখু মিয়া ওরফে সুমনকে (২২) গ্রেফতার করে পিবিআই। গ্রেফতারকৃত সুমন উপজেলার শহরটোক এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, গত বছরের ২৫ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে নিহত ইদ্রিসের মরদেহ এই হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলার ১ নং আসামি জহির আহসান জাহিদের নানার বাড়ির পাশে পুকুরের পাড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তখন মরদেহের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখা যায়। নিহত জসিম উপেজলার সালয়াটেকি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে।

এ ঘটনায় নিহতের মা মোর্শেদা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় একইদিন ৩০২/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ৪ মাস তদন্ত করে কাপাসিয়া থানা পুলিশ। পরবর্তীতে তদন্তের জন্য পিবআইয়ের গাজীপুর শাখায় পাঠানো হয়।

পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের দিক নির্দেশনায় ও গাজীপুর পিবিআইয়ের এসপি মোহাম্মদ মাকছুদের রহমানের সার্বিক সহযোগীতায় মামলাটির তদন্ত করেন পুলিশ পরিদর্শক হাফিজুর রহমান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানান, এজাহারনামীয় ১নং আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ এর সাথে তার নানার বাড়ির সম্পত্তির ওয়ারিশ নিয়ে তার মামা রবিন ভূইয়ার সাথে বিরোধ দেখা দেয়। নিহত ইদ্রিস আসামী জাহিদের পক্ষ নিয়ে তাকে জমি দখলে সহযোগীতা করে।

পরবর্তীতে আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ এর সাথে ইদ্রিস এর মনোমালিন্য হলে ইদ্রিস আলী আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ এর মামা রবিন ভুঁইয়ার সাথে যোগ দেয়। ঘটনার ০৩ (তিন) দিন আগে ঘটনাস্থলের পাশে এজাহারে উল্লেখিত আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে টোক বাইপাসে ভিকটিম ইদ্রিসকে ভয় দেখায়।

এই সুযোগে এজাহারে উল্লেখিত আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ এর মামা রবিন ভূইয়া গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ দুখু মিয়া ওরফে সুমন ও তার সহযোগীদের সাথে ইদ্রিসকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে ১২ লক্ষ টাকায় চুক্তি করে।

২০২০ সালের ২৪ আগস্ট দিনগত রাত ২টার দিকে আসামীরা ইদ্রিসকে ইয়াবা ট্যাবলেট আনার জন্য মোবাইল ফোনে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে গলা চেপে ধরে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে ও এলোপাথারিভাবে মারপিট করে হত্যা করে। পরে সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ এর নানা বাড়ির যে ঘরে মাঝে মধ্যে সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ ঘুমাতো ওই ঘরের পিছনে পুকুরপাড়ে মৃতদেহ ফেলে রেখে চলে যায়।

এ বিষয়ে পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, এজাহারে উল্লেখিত জহির আহসান জাহিদ তার মায়ের ওয়ারিশ প্রাপ্ত সম্পত্তি নেওয়া জন্য তার মামা রবিন ভূইয়াকে বললে তার মামা রাজি না হওয়ায় সে স্থানীয় রফিক এবং রফিকের ভাগিনা ভিকটিম ইদ্রিস আলীর সহযোগীতা নেয়। এই সুযোগে ভিকটিম ইদ্রিস আলী জাহিদের দখলকৃত সম্পত্তি বিক্রয়ের কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে জাহিদের কথা বলে তার অগোচরে টাকা নেয়। এই বিষয়টি জাহিদ বুঝতে পারায় ভিকটিম ইদ্রিস ও তার মামা রফিকের সাথে তার বিরোধ হয়।

তিনি বলেন, ভিকটিম ইদ্রিস ও তার মামা রফিক পুনরায় এজাহার নামীয় আসামী জাহিদের মামা রবিন ভূইয়ার পক্ষ অবলম্বন করে। পরবর্তীতে রবিন ভূইয়া তার পৈত্রিক সম্পত্তি তার ভাগ্নে এজাহারনামীয় আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ কে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ দুখু মিয়া ওরফে সুমনসহ তার সহযোগী আসামীদের দিয়ে ভিকটিম ইদ্রিসকে হত্যা করে মৃত দেহ রবিন ভুইয়ার নিজের বাড়ীর যে ঘরে মাঝে মধ্যে সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ ঘুমাতো ওই ঘরের পিছনে পুকুরপাড়ে ঘটনাস্থলে মৃতদেহ ফেলে রেখে চলে যায়।

তিনি আরও জানান, বুধবার (২৫ আগস্ট) আসামি দুখু মিয়া ওরফে সুমনকে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের নাম জানিয়ে ও নিজের জড়িত থাকার ঘটনা উল্লেখ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

দয়া করে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ ধরনের সংবাদ পড়তে.............