নেত্রকোনায় নৌকাডুবি এক পরিবারের ৮ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
নেত্রকোনার মদনে নৌকাডুবির ঘটনায় ময়মনসিংহের একই পরিবারের ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রামের শোকের মাতম চলছে।

নিহতরা হলেন, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫ নং সিরতা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের মাদ্রাসায়ে মারকাযুস সুন্নাহ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান মেয়াজ উদ্দিন (৩৮) বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান আসিফ (১৭), ছোট ছেলে মাহমুদুর রহমান (১৪), ভাগ্নে রেজাউল করিম (১৮), বাতিজা, মো. জুবায়ের হোসাইন (১৯), মো. মুজাহিদ মিয়া (১৪) তারা প্রত্যকেই মাদ্রাসায়ে মারকাযুস সুন্নাহ মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। মাহফুজুর রহমান মেয়াজ উদ্দিনের ভাতীজি লুবনা আক্তার (১০) ও জুলফা আক্তার (৭) তারা দুজন ইসরাহুল বানাত মহিলা মাদ্রাসা শিক্ষার্থী।

বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মদনের উচিতপুরের সামনের হাওর গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা নামক স্থানে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫ নং সিরতা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের মাদ্রাসায়ে মারকাযুস সুন্নাহ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান মেয়াজ উদ্দিন (৩৮)। তিনি ইসরাহুল বানাত মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বলেও জানা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সকালে ময়মনসিংহ সদর থানার ৫নং চর সিরতা ইউনিয়ন ও আটপাড়া তেলিগাতী থেকে প্রায় ৪৮ জন মানুষ ঘুরতে মিনি কক্সবাজার উচিতপুরে আসে। পরে নৌকায় ঘুরতে গেলে হাওরের উত্তাল ঢেউয়ে গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা নামক স্থানে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে ১৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহের ছিল ৩৮ জন।

মাহফুজুর রহমানের ভগ্নিপতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সকালে পরিবারের সকলে নিয়ে আনন্দ ভ্রমনে গিয়েছিল। কে জানত এটাই যে তাদের শেষ বিদায়। এ কথা বলতে বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

নিহত রেজাউলের মা রেহেনা খাতুন বলেন, ছেলে ছোট থাকতেই তার বাবা গেছেন। মামার বাড়িতে থেকেই রেজাউল হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করত। এরপর কথা বলতে বলতেই তিনি জ্ঞান হারান

সিরতা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মাহমুদ আল নৌকা ডুবে এক পরিবারের ৮ জনের মৃত্যুছিলেন। তিনি দুটি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। দুই মাদ্রাসায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী আছে। মাহফুজুর রহমানের মৃত্যুতে ৪৫০ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন। আমরা হারিয়েছি এক জন ভাল মানুষকে

৫ নং সিরতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়ীদ বলেন, কোনাপাড়া গ্রামের মাদ্রাসায়ে মারকাযুস সুন্নাহ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান মেয়াজ উদ্দিনের দুই ছেলে, এক ভাগ্নে, দুই ভাতিজা ও দুই ভাতিজী সহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা প্রত্যেকেও হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আমি বর্তমানে নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলায় আছি। মদন থানা থেকে ১৩ জনের লাশ পাঠিয়েছি। দুই জনের লাশ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একজন এখনো নিখোঁজ আছে বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত ১৭ জন ময়মনসিংহের বাসিন্দা। এর মধ্যে গৌরীপুর উপজেলার ২ জন, সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের ১৫ জন ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ৩১ নাম্বার ওয়ার্ডের একজন। নিহত প্রত্যেককে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Scroll Up