বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ভাষাসৈনিক রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া আজও পাননি একুশে পদক

মফিজ উদ্দিন তালুকদার।। মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১নং সেক্টরের অন্যতম সংগঠক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সাবেক সংসদ সদস্য রফিক উদ্দিন ভূঁঞা এখনো পাননি একুশে পদক।ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পরও তাঁকে একুশে পদক প্রদান না করায় পরিবারের সদস্য ও নিজ এলাকার জনগন খুবই দুঃখ প্রকাশ করেছেন।জানা যায়, তিনি ১৯২৮ সালের ২৫ জানুয়ারি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মেরেঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।ছাত্র জীবনে কলকাতার কলিজিয়েট স্কুলে অধ্যয়নের সময় বঙ্গবন্ধুর সাথে তার পরিচয় ঘটে এবং রাজনৈতিক হাতেখড়ি। ১৯৪৮ সালে তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সম্মিলিত ছাত্র পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন।১৯৫২ সনে ময়মনসিংহ জেলা সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে শহরে  এক সভায় বক্তব্যরত অবস্থায় গ্রেপ্তার হন তিনি।দীর্ঘ আড়াই বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় তার মায়ের মৃত্যু হলে তিনি প্যারোলে মুক্তি চান।কিন্তু পাকিস্তানি শাসক’ আর রাজনীতি করবোনা ‘ এই শর্ত মেনে মুছলেকা দিলে মুক্তির আশ্বাস দেয়।কিন্তু তাতে রাজি হননি তিনি।এজন্য মায়ের মৃত্যুর পর লাশও আর দেখা হয়নি তাঁর।১৯৫৪ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের ২৩ মার্চ মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত সভাপতি  ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সহসভাপতি এবং ওয়াকিং কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এর মধ্যে ১৯৫৪ সালে জেলা বোর্ডের  চেয়ারম্যান ও পরে তিনি অবিভক্ত ময়মনসিংহের জেলা গভর্নর নিযুক্ত হন।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৬৬ সালের ৬ দফা কর্মসূচিতে জনমত গঠনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি ১১ নং সেক্টরের অন্যতম সংগঠক হিসেবে নেতৃত্ব এবং বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন।মুক্তিযোদ্ধের শুরুর দিকে নান্দাইলের মেরেঙ্গা গ্রামে তার বাড়িটি পাক -বাহিনীরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এবং ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।রাজনীতির বিভিন্ন পট পরিবর্তনে পর মন্ত্রীত্বের লোভ দেখিয়েও তাঁকে আওয়ামী রাজনীতি থেকে বিচ্যুতি করতে পারিনি তথাকথিত রাষ্ট্রনায়ক।১৯৯৬ সালের ২৩ শে মার্চ বার্ধক্য জনিত কারণে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।সরেজমিনে গ্রামের  বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর বসত ভিটায় আগাছা জন্মেছে। দুই ছেলে বাড়িতে থাকেনা।রফিক উদ্দিন ভূঁইয়ার ভাতিজা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট কবির উদ্দিন ভূইয়া বলেন,একজন ভাষা সৈনিক হিসেবে আড়াই বছর জেল খাটার পরও এখনো তিনি একুশে পদক পাননি,যা খুবই দুঃখজনক।স্বাধীন দেশে রফিক উদ্দিন ভূইয়ার যথাযথ মুল্যায়ন হয়নি।  তাঁর স্বজনেরা বলেন,বঙ্গবন্ধু রফিক ভূইয়া সাহেবের  বাড়িটি নির্মাণ করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাহাতে রাজী হননি।এলাকাবাসীরা জানান,ভাষা আন্দোলনে ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা এই নেতাকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা ও স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর বসত ভিটা সংরক্ষণ করা উচিত।

Scroll Up