বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ময়মনসিংহে ৫ ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান১৮ লক্ষ টাকা জরিমানা। দৃকের সাথে ময়মনসিংহ বিভাগীয় নারী সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা বিনিময় আগামীকাল থেকে ময়মনসিংহে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ময়মন‌সিং‌হের তারাকান্দায় বিদ‌্যুৎপৃষ্ঠ হ‌য়ে যুবকের মৃত‌্যু ।। ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় তিন মোটর সাইকেল আরোহী নিহত। ক্যাডেট স্কুলের নামে প্রতারণা! নিবন্ধন না থাকায় বই পায়নি ফরহাদ ক্যাডেট একাডেমি! পর্ব-২ ক্যাডেট স্কুলের নামে প্রতারণা! হতাশ অভিবাবকরা।। পর্ব-১ ময়মনসিংহের ‘চূড়খাই বাজার ব্যবসায়ী সমিতি’এর ত্রিবার্ষিক নির্বাচন /২০২২ অনুষ্ঠিত এসএস‌সি তে দেশ সেরা ময়মন‌সিংহ শিক্ষা‌ বোর্ড ।। ময়মনসিংহে ভুমি সন্ত্রাসীদের চাঁদা দাবি হামলা এবং হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সীমান্তে গর্ভবতী মায়েদের সেবায় আদিবাসী মিনা রাংসা

 

কলমাকান্দা থেকে রীনা হায়াৎ

তখন কেবল সকাল হয়েছে। উঠোন ঝাড়ু দিয়ে, বাসন মেজে খামারের হাঁস-মুরগিগুলো ছেড়ে দিলেন মিনা রিংসা। চুলায় রান্না বসাতেই সন্তানের ঘুম ভাঙল। তাকে বিশেষ কায়দায় কোলে ঝুলিয়ে নিয়েই দিনের কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়লেন মিনা। এরই মধ্যে খবর এলো পাশের গ্রামে যেতে হবে। সেখানে এক গর্ভবতী মায়ের প্রসববেদনা শুরু হয়েছে। এবার তিনি সব কাজ বাড়ির লোকজনকে বুঝিয়ে দিয়ে ছুটলেন মিনা। শুধু পাশের গ্রামে নয়, আশপাশের দশ গ্রামের গর্ভবতী নারীদের ভরসা মিনাই। মিনা বলেন, অনেক সময় আগে থেকেই খবর পাই। তখন পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে পারি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডেলিভারির সময় ডাক পাই। তখন গিয়ে প্রসূতির অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিতে হয়। সব ঠিক থাকলে বাড়িতেই ডেলিভারি করাই। তবে মায়ের বা গর্ভস্থ সন্তানের কোনো সমস্যা থাকলে তাদের হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই। সমস্যা হচ্ছে গ্রামের মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাসপাতালে যেতে চান না। এমনিতেই তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তার ওপর করোনার কারণে অনেক মানুষ তাদের কাজ হারিয়েছে। যার ফলে তাদের হাতে টাকা-পয়সা নেই। এ কারণে তারা আর ডাক্তার বা হাসপাতালে যেতে চায় না। তখন তাদের বুঝিয়ে বলি, মা ও সন্তানের মঙ্গলের জন্য একটু কষ্ট করে ব্যবস্থা করেন। অনেক সময় তাদের সঙ্গে আমি যাই। গিয়ে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে হাসপাতালের খরচ কমিয়ে দিইই।
মিনা রিংসা নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানা, লেঙ্গুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। গারো আদিবাসী গোষ্ঠীর এই নারী একজন প্রশিক্ষিত ধাত্রী। চন্দ্রঘোনা হাসপাতাল থেকে তিনি প্রসূতিবিদ্যায় ডিপ্লোমা করেছেন। করোনার আগে তিনি দুস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের (ডিএসকে) একজন কর্মচারী হিসেবে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিবার পরিকল্পনা ও গাইনি সেবিকা হিসেবে কাজ করেছেন। কেমন ছিল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে মিনা বলেন, তাদের অধিকাংশ গর্ভবতী নারী পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। শিশুরাও অপুষ্ট এবং নানা রোগে আক্রান্ত। পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কেও ওদের স্বচ্ছ কোনো ধারণাই নেই। ওরা এখনো বিশ্বাস করে সন্তান সৃষ্টিকর্তার দান। যত বেশি সন্তান হবে তত তারা পুণ্য অর্জন করবে। শুধু তাই নয়, তারা এ-ও মনে করে প্রসবকালে যদি সন্তানের মৃত্যু হয় তবে সে বেহেশতবাসী হবে। আমরা তাদের নানাভাবে বুঝিয়েছি। পুষ্টি সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। পরিবার পরিকল্পনার সুফল সম্পর্কে জানিয়েছি।
শুরুর দিকে তারা মানতে চাননি। তাই জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ, ইনজেকশন আমরা তাদের ভিটামিন বলে দিতে বাধ্য হয়েছি। তবে ধীরে ধীরে তারা বুঝতে পারছে বিষয়গুলো।

করোনা শুরু হওয়ার শুরুতেই কিছু পারিবারিক কাজে আমাকে নিজবাড়িতে সময় দেওয়ার প্রয়োজনে চাকরি ছেড়ে চলে আসি। তবে আমি আমার কাজটা ছাড়িনি। নিজ গ্রামেই আমি গর্ভবতী নারীদের সেবা দিতে থাকি। কিছুদিনের মধ্যেই আশপাশের গ্রামে আমার সম্পর্কে জানাজানি হয়। এখন তো দশ গ্রামের মানুষ আমাকে চেনে। আমি মনে করি এটা আমার পরম সৌভাগ্য। মানুষের সেবা করতে পারি। আমি কোনোদিন তাদের কাছে আমার পারিশ্রমিক চেয়ে নিই না। তারা খুশি হয়ে যা দেয় তাই নিই। কারও আর্থিক অবস্থা যদি বেশি খারাপ হয় আমি তাদের কাছ থেকে কোনো টাকাই নিই না। ওষুধপত্রের খরচটা নিয়ে চলে আসি। সদ্যোজাত সন্তানের মুখ দেখে একজন মা যখন হাসেন, ওটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া বলে আমি মনে করি।

দয়া করে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ ধরনের সংবাদ পড়তে.............