ব্রহ্মপুত্র নদের কাচারিঘাটের পূর্বপাড়ে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব।

ডেস্ক রিপোর্ট।। ব্রহ্মপুত্র নদের কাচারিঘাটের পূর্বপাড়ে
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর জামাল হোসেন ও আনু মোড়লের নেতৃত্বে সরকারি জমি থেকে বালু উত্তোলন ও মাটিকাটা অব্যাহত রয়েছে। এতে বাঁধ, ফসলি জমি এবং ঘরবাড়ি হুমকিতে পড়েছে।
সরজমিনে দেখা যায়, অতি সম্প্রতি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এর বিষয়টি সম্পর্কে প্রশাসন অবহিত হওয়ার পর গত ১০ মার্চ( বৃহস্পতিবার) বিকেলে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম ইবনে মিজান ব্রহ্মপুত্র নদের কাচারিঘাটের পূর্বপাড়ে ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ঘটনাস্থল থেকে ভ্যাকু চালক, সোহেল, ফেরদৌস আলমসহ চার জনকে আটক করেন। এসময় আটক সোহেল ভ্রাম্যমাণ আদালতকে বলেন, বালু তোলা হচ্ছে জামাল হোসেন ও আনু মোড়লের কথায়।

পরে তাদেরকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর এসিল্যান্ড এএইচএম ইবনে মিজান। এসময় সিটি করপোরেশনের ৩১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল হোসেন ও আনু মোড়ল জরিমানার টাকা পরিশোধ করে আটক কৃতদের ছাড়িয়ে নেন।

কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে যাওয়ার পরে পুনরায় সরকারি জমি খনন করে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা শুরু করে দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক নদ তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর জামাল হোসেন ও আনু মোড়লের নেতৃত্বে সারা দিনরাত ভ্যাকু, ট্রাক এবং হ্যান্ডট্রলী দিয়ে মাটি ও বালু পরিবহন করায় গ্রামীণ সড়কগুলো ধসে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। আবার বালু তোলার কারণে নদের তীরবর্তী ফসলি জমি ও বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে।

ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু তুলায় নদের তীরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বালু উত্তোলনের কারণে বিভিন্ন স্থানে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যেকোনও সময় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তারা আরো বলেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলেনা। মাঝে মাঝে প্রশাসন থেকে অভিযান চালিয়ে মেশিনপত্র জব্দ করা হলেও কিছুদিন পর আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ অবস্থা বিরাজ করলে আগামী দু’তিন বছরের মধ্যে নদের পাশের ফসলি জমি, ভিটে ও বাড়িঘর ধসে নদগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.