শাটার লাগিয়ে বেকারীর ভিতরে চলছে সেমাই তৈরীর মহোৎসব

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লাচ্ছা-সেমাই তৈরির ধুম পড়েছে। লাচ্ছা-সেমাইগুলো ভোক্তাদের চোখে মুখরোচক মনে হলেও এগুলো তৈরি হচ্ছে স্যাঁতস্যাঁতে মেঝে ও নোংরা পরিবেশে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এ সেমাইগুলো।

স্বরেজমিনে জেলার তারাকান্দা উপজেলার বিশকা ইউনিয়নের চান্দের বাজার এলাকায় বাইরে থেকে শাটার বন্ধ করে বেকারীতে চলছে সেমাই তৈরীর মহোৎসব। বেকারীন শাটার লাগিয়ে ৪ থেকে ৫ জন শ্রমিক সেমাই তৈরীর কাজ করছেন তা দেখে বুজার কোন উপায় নেই ভিতরে সেমাই তৈরী হচ্ছে।

কৌশলে কারখানায় ঢুকে দেখা যায়, নোংরা ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে সেমাই তৈরী হচ্ছে। কোথাও কোথায় স্যাঁতস্যাঁতে মেঝের উপর সেমাইয়ের খামির পরে আছে। স্যাঁতস্যাঁতে মেঝের উপর ফেলেই করা হচ্ছে প্যাকিং। আবার দু’জন সেমাই ভাজার কাজ করছেন। ঘেমে একাকার হলে শরীরের ঘাম পড়ছে সেমাইয়ের খামিরে। যে তেলে সেমাই ভাজা হচ্ছে, সেটিও দেখলেই বুজা বেশ কয়েকদিন এক তেলেই ভাজা হচ্ছে সেমাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার শ্রমিক এক শ্রমিক বলেন, আমরা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সেই তৈরী করি। আমরা গরিব মানুষ এখানে কাজ করে পেট চলে। আমাদের কোন ক্ষতি করবেন না দয়া করে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেমাই তৈরীর কারখানায় আগে বেকারীর খাদ্য সামগ্রী তৈরী হতো। কিন্তু, ঈদের আগে বেকারীর শাটার ফেলে সেমাই তৈরী করে। ভিতরে কি পরিবেশে সেমাই তৈরী হচ্ছে, তা আমাদের জানা নেই। কারণ, ওই কারখানার ভিতরে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয় না।

এবিষয়ে কারখানার মালিক রুহুল আমিন বলেন, আমি গত দুই ঈদেই সেমাই তৈরী করছি। আমি সব অনুমোদন নিয়েই সেমাই তৈরী করছি। অনুমোদনের কাগজ দেখতে চাইলে তিনি বলেন, বিএসটিআই’র অনুমোদন নেই। তবে, অন্য কাগজপত্র দেখানো যাবে না। তবে, আমার এখানে বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও আমার পেট চলে এই কারখানা আয় দিয়ে। আশা করি আমাদের পেটে লাথি দিবেন না।

এবিষয়ে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। ঈদের আগেই ওই সেমাই কারখানায় অভিযান চালানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Share & Like
Share & Like