কলমাকান্দায় ৯ বছর ধরে দুটি স্কুল শিক্ষকহীন পড়ে আছে ভবন-চেয়ার-টেবিল,

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ

দুটি ভবন এখনো আছে। তার মধ্যে পর্যাপ্ত বেঞ্চ-চেয়ারসহ অনেক শিক্ষা উপকরণ। স্কুলের সামনে বড় মাঠ। তবে ওই স্কুলে নেই কোনো শিক্ষক।
তাই বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষা কার্যক্রম। এক-দুই বছর না, টানা ৯ বছর ধরে শিক্ষকের অভাবে বন্ধ আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের ইয়ারপুর গ্ৰামে ইয়ারপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এটি। প্রতিবছরই আকস্মিক বন্যায় বন্যা দুর্গতরা এই স্কুলেই আশ্রয় নেয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওয়ার্ল্ড ভিশন কলমাকান্দা এডিপি ও বালুচরা মিশনের অধীনে জাপানের সহযোগিতায় ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছয় কক্ষ বিশিষ্ট বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়।আর সেই সময় থেকে কারিতাস বাংলাদেশ এর আলোঘর ( LIGHTHOUSE) প্রকল্পের আওতায় একজন শিক্ষক এর দ্বারা এই বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছিলো। ওই সময়ে বিদ্যালয়টিতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে বালুচরা মিশনের সাথে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ জানায়, কারিতাস বাংলাদেশ এর আলোঘর (LIGHTHOUSE) প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হ‌ওয়ার কারনে এটা বন্ধ হয়ে গেছে। তারপর থেকে প্রায় ৯ বছর যাবত এটি পরিত্যক্ত/বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাপন স্কু বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন কলমাকান্দা (এডিপি) ও বালুচরা মিশনের অধিনে কারিতাস বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চালাত। বিদ্যালয়টি চালু থাকাকালীন পাঁচ-সাতটি গ্রামের অন্তত দেড় শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করত। আর ৯ বছর ধরে বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে গিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে হচ্ছে।বন্যায় ব্রিজ কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বাসের সাঁকোর উপর হামাগুড়ি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে স্কুলে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে।
আদিবাসী নেতা বথুয়েল চিসিম বলেন, কলমাকান্দা উপজেলায় এ রকম আরো বেশ কিছু বিদ্যালয় রয়েছে, সেগুলোও বর্তমানে বন্ধ আছে। এ নিয়ে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য মানু মজুমদার মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি স্কুলগুলো চালু করতে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফিলিপ ম্রং বলেন,বালুচরা মিশন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন কলমাকান্দা (এডিপি)র সহযোগিতায় কারিতাসের পরিচালনায় সে সময় ওই বিদ্যালয়টি ভালোই চলছিল। শিক্ষার্থীও ছিল দেড় শতাধিক। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টিতে ওয়ার্ল্ড ভিশন কলমাকান্দা (এডিপি) সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকেই আর্থিক সংকটের কারণে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি আবারও চালু হোক।
এ ব্যাপারে নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, এনজিও প্রতিষ্ঠিত অনেক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করা হয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম না থাকায় অনেক বিদ্যালয় সরকারিকরণ হয়নি।তবে বিদ্যালয় স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করার সুযোগ আছে।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাসেম বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য আমার জানা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যালয়টি চালু করা যায় কি না, তা পরবর্তীতে জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Share & Like
Share & Like