প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ১১দফা দাবী বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

মফিজ উদ্দিন তালুকদার(ময়মনসিংহ)।। সারাদেশে একযোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ১১দফা দাবী বাস্তবায়নে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায়
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ১১দফা দাবী বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে মানববন্ধন কর্মসূচি ও জেলা প্রশাসক বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ২৩ মে ২০২৪ বৃহস্পতিবার ময়মনিংহের সংক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী নাগরিক সমাজের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ১১দফা দাবী বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচীর সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মালতি সমাজকল্যাণ সংস্থার এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ শাহাদাত সারোয়ার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,প্রতিবন্ধী আরোহী সংস্থার নেত্রী তাহমিনা আক্তার,এসিডদগ্ধ প্রতিবন্ধী নারী আনোয়ারা বেগম,প্রতিবন্ধী মোফাজ্জল হোসেন,হোসনা আক্তার, জোসনা খাতুন,ফিরোজ মিয়া,আঃ বারেক,ডলি, মোতালেব,রনি,আবুল কাশেম,বাপ্পি,এনায়েত প্রমুখ।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে যেসব ১১দফা দাবীসমূহ
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারক লিপির মাধ্যমে তুলে ধরেন তা হলো,
১। ২০২৪-২৪৫ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতা মাসিক ন্যূনতম ৫০০০ টাকা এবং শিক্ষা উপবৃত্তি মাসিক ২০০০ টাকা করা। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভাতা ও উপবৃত্তি উভয়ই বরাদ্দ করা।
২। প্রতিবন্ধী মানুষের সরকারি চাকরিতে নিয়োগে বিশেষ নীতিমালা (কোটা) প্রণয়ন করা।
৩। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকে ১০০০ কোটি টাকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উদ্যোক্তা তহবিল গঠন।
৪। অনতিবিলম্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে কার্যকর করা।
৫। বাংলা ইশারা ভাষা ইন্সটিটিউট প্রণয়ন, বাংলা ইশারা ভাষা যুক্ত সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম চালু এবং বিদ্যালয়, আদালতসহ সকল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে বাংলা ইশারা ভাষার দোভাষী সেবা নিশ্চিত করা।
৬।অবিলম্বে শিক্ষা ও চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মর্যাদাকর অভিন্ন জাতীয় শ্রুতিলেখক নীতিমালা প্রণয়ন করা।
৭। নিরন্ন, শ্রমজীবী-মেহনতি এবং অটিস্টিকসহ সকল গুরুতর প্রতিবন্ধী মানুষদের আত্মনির্ভরশীল বা ন্যূনতম জীবন ধারনের সুযোগ সৃষ্টি করতে আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ সকল পুনর্বাসন কর্মসূচীতে ৬ শতাংশ কোটা নিশ্চিত করা।
৮। অটিজমসহ গুরুতর প্রতিবন্ধী মানুষের স্বাস্থ্য ও কেয়ারগিভার ভাতা চালু করা।
৯।প্রবেশগম্য অবকাঠামো এবং গণপরিবহন নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ করা।
১০। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, স্থানীয় থেকে জাতীয়, সকল পর্যায়ে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
১১। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়ন করা।
এসময় প্রতিবন্ধীদের মাঝে অনেকে বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবি দাওয়া তুলে ধরেন। তারা তাদের বক্তব্যে বলেন,জেলা প্রশাসক কার্যালয়,উপজেলা কার্যালয় ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গেলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হেয় প্রতিপন্ন ও হয়রানির শিকার হতে হয়,আর সেই হয়রানি হতে পরিত্রাণ পেতে সরকারের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share & Like
Share & Like