
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নে আঃ রহমান (৬০) নামে এক বৃদ্ধের জমি কারসাজি করে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম গংদের অভিযুক্ত করে আঃ রহমান আদালতে মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ওই ইউনিয়নের মৃত আঃ কাইয়ুম এর ছেলে। ভুক্তভোগী আঃ রহমান মৃত আঃ হাই এর ছেলে।
অভিযোগ কারী আঃ রহমান এর দায়ের কৃত মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ছমির উদ্দিন মৌলভী নালিশী দাগের হিস্যাকৃষ্ট ৩৫ শতাংশ ভূমি প্রাপ্ত হয়ে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে থাকাবস্থায় ২ পুত্র আব্দুল হাই, আব্দুল কাইয়ুম, ১ কন্যা শিবালীর মা কে ওয়ারিশ বিদ্যমানে মৃত্যুবরণ করলে নালিশী দাগের ৩৫ শতাংশ ভূমি ঘরোয়া আপোষ মূলে উক্ত আঃ হাই ও আঃ কাইয়ুম প্রাপ্ত হন। নালিশী এস.এ ৩৭৯ নং খতিয়ানের অন্তর্ভূক্ত ৪৩৫ নং দাগের ১০৫ শতাংশ ভূমি বাবদ রেকডীয় মালিক ছিলেন আঃ হাই, আঃ কাইয়ুম সহ তৎবোন সিবালীর মা। উক্ত আঃ হাই ও আঃ কাইয়ুম এজমালিতে ভোগ দখলে থাকেন ও সিবালীর মাকে অংশ অনুযায়ী ভিন্ন দাগে ভূমি প্রদান করেন। আঃ রহমান এবং রফিকুল ইসলাম পূর্ববর্তী আঃ হাই ও আঃ কাইয়ুম সাবেক ৫৪৭ দাগের ৩৫ শতাংশ ও ৪৩৫ নং দগের ১০৫ শতাংশ একুন ১৪০ শতাংশ ভূমি আপোষ ঘরোয়া বন্টনে বাদীগনের পূর্ববর্তী আঃ হাই ৪৩৫ নং দাগের ৭০ শতাংশ বিবাদীগনের পিতা আঃ কাইয়ুম ৫৪৭দাগের ৩৫ শতাংশ ও ৪৩৫ দাগের ৩৫ শতাংশ একুন ৭০ শতাংশ ভূমি সরজমিনে দখল বুঝে নেন। নালিশী সাবেক ৫৪৭ দাগের ৩৫ একর ভূমি এস.এ জরিপকালে ১-৪ নং বিবাদীগনের পিতার নামে রেকর্ড না হলেও বিবাদীগনের পিতা আঃ কাইয়ুম সাবেক ৫৪৭ নং দাগের ৩৫ শতাংশ ভূমি ভোগ দখলে থাকাবস্থায় তৎ স্ত্রী বরাবরে হস্তান্তর করলে আঃ কাইয়ুম এর কণ্যা উম্মে কুলসুম নালিশী ৫৪৭ নং দাগের ৩৫ শতাংশ ভূমির মালিক দখলকার থাকা অবস্থায় বিগত ১৩-০৭-১৯৭৬ ইং তারিখে ১২৯৮২ নং সাফ কাওলা দলিল মুলে ২০ শতাংশ ভূমি জনৈক আনাছ আজগর তালুকদার চাদ সুলতানা পারভীন বরাবরে ও বিগত ০৪-১০-১৯৭৬ ইং তারিখে ৮৩৯৬ নং দলিল মূলে ১ শতাংশ ভূমি আনাছ আজগর তালুকদার ও শাহিদ আজগর তালুকদার বরাবরে হস্তান্তর করে দখল প্রদান করেন।
অতঃপর রফিকুল ইসলাম, এমদাদুল হক পিতা আঃ কাইয়ুম নালিশী সাবেক ৪৩৫ নং দাগের ৩৫ শতাংশ ভূমি সহ অপরাপর ভূমি ভোগ দখলে নিয়ত থাকা অবস্থায় আঃ কাইয়ুম মৃত্যু কালে উম্মে কুলসুম বিবাদীকে স্ত্রী, ৪ পুত্র ও মোছাঃ নাছিমা খাতুন কে এক কন্যা বিদ্যমানে মৃত্যুবরণ করেন। অতঃপর ৪ পুত্র নালিশী সাবেক ৪৩৫ দাগের ৩৫ শতাংশ ভূমি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে ভোগ দখলে থাকাবস্থায় বিগত ১৪-১০-১৯৮০ ইং তারিখে ২০০৪ নং এওয়াজ বদল দলিল মূলে সাবেক ৪৩৫ নং দাগের ৩৫ শতাংশ ভূমি বাদী গনের পূর্ববর্তী আঃ হাই বরাবরে হস্তান্তর করে দখল প্রদান করেন। বিবাদীগনের পূর্ববর্তী ও বিবাদীগনের নালিশী দাগ সহ সাবেক ৫৪৭ দাগের ঘরোয়ানা বন্টনে প্রাপ্ত সমূদয় ভূমি বিক্রয় ও হস্তান্তর করিয়া নিঃস্বত্ববান হন।
অতঃপর আঃ রহমান গং পূর্ববর্তী আঃ হাই সাবেক ৪৩৫ দাগের সমূদয় ১০৫ একর ভূমি ভোগ দখলে থাকাবস্থায় ১৪১(IX-1)১৯৮৪-১৯৮৫ নং জমা খারিজ মোকদ্দমা মুলে নিজ নামে জমা খারিজ করে ডি.সি.আর খাজনার দাখিলা গ্রহণ করেন। তৎপর আঃ রহমান পিতা আঃ হাই ১৯৯২ ইং সন পর্যন্ত নালিশী ভূমির বাবদে খাজনাদি পরিশোধ করে নালিশী ভূমির কিছু অংশে ঘর দরজা নির্মাণ করে দোকান প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে ও ভাড়া হিসাবে প্রদান করে ভোগ দখলকার আছেন।
ইদানিং আঃ রহমান ভূমির কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা করে জানতে পারেন যে, বিগত বি.আর.এস জরিপে জরিপ কর্মচারী/কর্মকর্তাগণ ভ্রমাত্মকভাবে সাবেক ৪৩৫ নং দাগকে হাল ৭০৩ নং দাগে রূপান্তরিত করে ১০৫ শতাংশ ভূমি রফিকুল ইসলাম গং পক্ষ নামীয় বি.আর.এস ১৯৫ নং খতিয়ানে লিপি করেন। প্রকৃতপক্ষে নালিশী হাল ৭০৩ নং দাগের ১০৫ শতাংশ ভূমি কর্তন করে আঃ রহমান এর নামে পৃথক বি.আর.এস রেকর্ড হওয়া উচিৎ ছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি বিগত ০২-০২-২০২৪ ইং তারিখ বিষয় টি রফিকুল ইসলাম কে অবহিত করলে নালিশী ভূমিতে আঃ রহমান পক্ষের যাবতীয় স্বত্ব স্বামীত্ব অস্বীকার করে। আঃ রহমান জীবিকার তাগিদে দূরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করায় এবং প্রভাবশালী রফিকুল গংদের পায়তারায় রেকর্ড হালনাগাদ কাজ সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করে খোঁজ খবর নিতে পারেন নাই। বাদীপক্ষের স্বত্ব দখলীয় নালিশী ভূমি বাবদ বি.আর.এস রেকর্ড বাদী পক্ষের নামে লিপিবদ্ধ না হওয়ায় বাদীপক্ষের নিরঙ্কুশ স্বত্বের উপর কালিমাপাত হয়েছে। নালিশী ভূমিতে আঃ রহমান ব্যতীত অন্য কাহারো কোন স্বত্ব বা দখল বিদ্যমান নাই। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে দূলোভী রফিকুল ইসলাম গং নালিশী ভূমি বেদখলের পায়তারা করলে আঃ রহমান অত্র আদালতে রফিকুল ইসলামদের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দাবীতে ৫২/২০১৭ নং (অন্য প্রকার) মোকদ্দমা দায়ের করলে বিগত ১৩-১০-২০১৯ ইং তারিখে বাদীপক্ষ একতরফা রায় ও ডিক্রি প্রাপ্ত হন। এছাড়াও অত্র ১-৩ নং বিবাদীপক্ষ অত্র আদালতে ১-৩ নং বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দাবীতে ৭০/২০১৭ নং অন্য প্রকার মোকদ্দমা দায়ের করলে মোকাদ্দমাটি ডিসমিস হয়। বিবাদীপক্ষ ভ্রমাত্মক বি.আর.এস এর সুযোগে নালিশী ভূমি গ্রাস করার পায়তারায় লিপ্ত আছে।
ভূক্তভোগী আঃ রহমান আক্ষেপ করে বলেন, বিষয় টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক বৈঠক করার পরও কোনো সুরাহা মানছে না। তিনি তার সম্পত্তির কাছে গেলে তাকে প্রাণে হত্যারও হুমকি দিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, দলিল থাকার পর তিনি তার জমিতে যেতে পারছে না। তাই তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু সমাধান দাবী করেছেন।