সেলিনা কবীর -
ময়মনসিংহ সদরে চর নিলক্ষীয়া ল্যাংড়া বাজার এলাকার আলোচিত সাইবার অপরাধী দুই ভাই—আশরাফুল ইসলাম মামুন ও তার ছোট ভাই মাসুদকে গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
গত ২ জুলাই ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা পরিচালিত এক অভিযানে ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি জানান, আশরাফুল ইসলাম মামুনের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে।
দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং শেখানোর নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার কারিগর সমাজ বিধ্বংসী আশরাফুল ইসলাম মামুন অবশেষে প্রশাসনের হাতে আটক। অভিযুক্ত মামুন দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন কৌশলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের আড়ালে তরুন, তরুনীদের ফ্রিল্যান্সিং শিখে লক্ষ, লক্ষ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মাধ্যমে ফিশিং লিংক পাঠিয়ে একাউন্ট হ্যাক এবং পর্নোগ্রাফি সাইটের দালালি করে আসছিলো।
মামুন এলাকায় নিজেকে একজন বড় মাপের ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পরিচয় দেন। ফ্রিল্যান্সিং শিখিয়ে রাতারাতি বড়লোক করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি এলাকার শিক্ষিত তরুণীদের টার্গেট করে শম্ভুগঞ্জ বাজারে তার ব্যাক্তিগত অফিসে নিয়োগ দেন। প্রশিক্ষণ দেওয়ার নাম করে তিনি কৌশলে 'ফিশিং লিংক' (Phishing Link) পাঠিয়ে অন্যের ব্যাংক, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে হাতিয়ে নিতেন অর্থ।
অভিযোগের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিকটি হলো পর্নোগ্রাফি সাইটের সাথে সংশ্লিষ্টতা। জানা গেছে, মামুন বিভিন্ন পর্নো সাইটের দালালি বা প্রমোশন করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য হাতিয়ে নিয়ে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করতেন। সামাজিক মর্যাদার ভয়ে অনেকে মুখ না খুললেও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ পত্রে খবর প্রকাশ হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ল্যাংড়া বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মামুনের রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া তার রহস্যজনক চলাফেরা এবং কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করার বিষয়টি আগে থেকেই সন্দেহের উদ্রেক করেছিল। বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদ পত্রে বিষয় টি নিয়ে খবর প্রকাশ হওয়ায় তা সাধারণ মানুষের মাঝে সাড়া পরে এবং বেরিয়ে আসে মামুনের অন্ধকার জীবনের তথ্য। ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মানুষ কে সর্বশান্ত করার অভিনব কৌশল অবলম্বন করে দীর্ঘদিন যাবত প্রতারণা, জালিয়াতি করে আসলেও মামুন ছিলো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
"সে নিজেকে ফ্রিল্যান্সার বলে পরিচয় দিলেও আসলে সে সাইবার অপরাধের সাথে জড়িত ছিলো।
তাদের আটকের খবরে এলাকায় নেমে এসেছে স্বস্তি।
এ জাতীয় আরো খবর..