সেলিনা কবীরঃ
গ্রাহক সন্তুষ্টি ও স্বার্থকে প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে "গ্রাহকই সবার আগে" বা কাস্টমার ফার্স্ট পলিসি নীতিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির কার্যক্রম শুরু।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি আজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত হিসাবধারীদের জন্য স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করেছে ।
এরই ধারাবাহকতায় সম্মলিত ইসলামি ব্যাংক,সোশাল ইসলামি ব্যাংক ইউনিট শম্ভূগঞ্জ উপশাখার কার্যক্রম নতুন ভাবে শুরু করেছেন।
ইনচার্জ মোঃ আবু তাহের, অফিসার মোস্তাক আহমেদ রবিন,সিনিয়র ফিল্ড অফিসার মোঃ জিয়াউল হক,এবং আরিফুর রহমান,জুনিয়র অফিসার এর উপস্থিতিতে শম্ভূগঞ্জ উপশাখার কার্যক্রম এক অনারড়্ম্বর আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছেন। এ সময় ইনচার্জ মোঃ আবু তাহের এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন,
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে পাঁচটি দুর্বল শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এটি শুধু একটি নতুন ব্যাংকের জন্ম নয়, বরং দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল সুশাসন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকিং খাতকে পুনর্গঠনের একটি কঠিন পরীক্ষাও বটে,তবে টাকা পরিশোধ শুরু হওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া আস্থা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে নতুন ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ। তবে সবকিছু নির্ভর করবে গ্রাহক সেবার ওপর।
ব্যাংক সূত্র বলছে,অনিয়মিত ঋণ বিতরণ, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ অনুমোদন, দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নজরদারির ব্যর্থতায় অনেক ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের হার ৯০ শতাংশেরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছে। ফলে একীভূতকরণ অনেকটাই অনিবার্যই ছিল।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি হিসাবের গ্রাহকদের মূল আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আজ শুরু হলেও টাকা পাওয়া যাবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে। প্রাথমিকভাবে গ্রাহকেরা তাঁদের হিসাব থেকে জমানো সম্পূর্ণ মূল অর্থ এককালীন তুলতে বা নগদায়ন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা পাবেন না তাঁরা। এজন্য আজ ০১ সেপ্টেম্বর ( মঙ্গলবার) থেকে আবেদন গ্রহণ করবে ব্যাংকটির শাখাগুলো।
শাখা ও উপশাখাগুলোতে নগদ টাকার রিকুইজিশন পাঠানো, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নগদ টাকার জোগান নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিমুক্ত ক্যাশ ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কয়েক দিন সময় প্রয়োজন। সে জন্যই ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোদমে আমানতের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাংকের চলতি হিসাব, সঞ্চয়ী এবং বিভিন্ন মেয়াদি হিসাব থেকে গ্রাহকেরা তাঁদের জমানো মূল টাকা তুলে নিতে পারবেন। তবে যেসব গ্রাহক হিসাব বন্ধ না করে চালু রাখবেন, তাঁরা চুক্তি অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত হারে যথারীতি মুনাফা পেতে থাকবেন। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চালু হলে মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ মিলবে।